আরিফুল ইসলাম তানবিন

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃতির মধ্যেই মাদ্রাসায় ভুয়া নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম তানবিন, জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসায় স্বীকৃতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে ভুয়া নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসায় আয়া ও নৈশপ্রহরী—এই দুইটি পদে প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি অবৈধ নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। অথচ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাদ্রাসাটির স্বীকৃতির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখেই শেষ হয়ে গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্বীকৃতি না থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আমজাদ হোসেন মেয়াদোত্তীর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ দুটি পত্রিকা—দৈনিক উত্তর কোণ ও জাতীয় দৈনিক নওরোজ—এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই দিন জয়পুরহাট জেলায় এসব পত্রিকার কোনো কপি সরবরাহই হয়নি। এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মাদ্রাসার নোটিশ বোর্ডেও টাঙানো হয়নি, যা নিয়োগ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

তথ্য অনুযায়ী, কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসার স্বীকৃতির মেয়াদ শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে। এরপর ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, ১৯ ডিসেম্বর নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয় এবং ৩১ ডিসেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তরা যোগদান করেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আয়া পদে শাহনাজ বেগম এবং নৈশপ্রহরী পদে মিজানুর রহমান রয়েছেন।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো মাদ্রাসায় জনবল নিয়োগ দিতে হলে প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত ও হালনাগাদকৃত হতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃতি কেবল পাঠদান অনুমতি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা এমপিওভুক্তি বা নতুন কর্মচারী নিয়োগের জন্য আইনগতভাবে বৈধ নয়। স্বীকৃতির মেয়াদ শেষ হলে নিয়োগের আগে ‘গ ফরম’-এর মাধ্যমে স্বীকৃতি নবায়ন বা স্থায়ী স্বীকৃতির আবেদন করতে হয়।

মাদ্রাসা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কার্যকর শিক্ষার্থী ও নির্ধারিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসা তিনবার আবেদন করেও পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি পায়নি। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এমন অবস্থায় ওই প্রতিষ্ঠানে কোনো নিয়োগ দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাগজপত্র জালিয়াতি, স্বাক্ষর নকল এবং অর্থের বিনিময়ে ডিজির প্রতিনিধি এনে মাদ্রাসার সুপার আমজাদ হোসেন ও সভাপতি নুরুল ইসলাম অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ মকবুলসহ একাধিক সচেতন নাগরিক অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আমজাদ হোসেন অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, নিয়োগটি অবৈধ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বড়তারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং তার ভাই, মাদ্রাসার সভাপতি সোহাগের চাপে তাকে দিয়ে এই নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি সোহাগ (ডাক নাম) এ বিষয়ে ফোনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, “এ বিষয়ে ফোনে কথা বলা যাবে না, সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলতে হবে।” এরপর তিনি ফোনটি কেটে দেন।

তবে নিয়োগ বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি শুকুর আলী মজুমদার বলেন, “মাদ্রাসা বোর্ড আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছে। আমি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরীক্ষা ও ভাইভা শেষে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকায় স্বাক্ষর করেছি।”

ক্ষেতলাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, “আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে আপনাকে জানাবো।”

মন্তব্য করুন