প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কেশবপুরে মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ
আলী হামজা, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া ধর্মপুর দারুছ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গোপনে দাতা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রোববার (২৮ জুন) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সাধারণ এলাকাবাসী ও অধ্যক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির অনলাইন মনিরামপুর-কেশবপুর প্রতিনিধি এনামুল হাসানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি পক্ষ তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা ভাঙচুর করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা বিএনপির সদস্য রেজাউল মোড়ল এবং ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খানের ভাইপো ও যুবনেতা ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি এ হামলা চালায়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, মাদ্রাসার অবৈধ কমিটি বাতিল এবং অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন চিংড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল হামিদ।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম অতীতে অন্য একটি মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। এছাড়া বর্তমান মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন