প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কেশবপুরে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত: মাদ্রাসার দুই কর্মচারীকে ইউএনওর শোকজ
আলী হামজা, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এনটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. ইনামুল হাসান লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার ঘটনায় চিংড়া ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন মাদ্রাসার অফিস সহকারী মো. ফারুক হোসেন এবং নিরাপত্তা প্রহরী তরিকুল ইসলাম। চাকরিবিধি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ও সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন পৃথক দুটি স্মারকে (স্মারক নং-৮৯৪ ও ৮৯৬) এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন চিংড়া ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যান এনটিভি অনলাইনের কেশবপুর ও মণিরামপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. ইনামুল হাসান।
অভিযোগে বলা হয়, সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে অফিস সহকারী ফারুক হোসেন ও নিরাপত্তা প্রহরী তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারধরের চেষ্টা চালান এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন। এ সময় সাংবাদিকের হাতে থাকা ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধনেরও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার দিনই সাংবাদিক ইনামুল হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণও জমা দেন।
অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজ প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, "গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সংবাদকর্মীর ওপর হামলা, হেনস্তা বা বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
তিনি আরও বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।"
এদিকে, এ ঘটনার পর স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ইউএনওর জারি করা শোকজ নোটিশের অনুলিপি যশোরের জেলা প্রশাসক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং চিংড়া ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন