প্রকাশিত: ৯ মে, ২০২৬, ১১:৪৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা এলাকায় এক নারী, তার তিন শিশুসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পলাতক গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াকে ঘিরে সন্দেহের কথা জানিয়েছে পুলিশ ও নিহতদের স্বজনরা।
শনিবার (৯ মে) ভোর রাতে উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা গোপালগঞ্জ থেকে এসে প্রায় এক বছর ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
নিহতরা হলেন— ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার, তাদের বড় মেয়ে মিম আক্তার, দেড় ও তিন বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান এবং শ্যালক রসুল হোসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে খবর পেয়ে তারা বাসায় গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। ঘরের ভেতরে শারমিনের হাত বাঁধা অবস্থায় পড়ে ছিল। অন্যদিকে মেঝেতে পড়ে ছিল তিন শিশুর মরদেহ এবং খাটের ওপর পাওয়া যায় রসুল হোসেনের ক্ষতবিক্ষত দেহ।
স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর থেকেই ফোরকান মিয়া নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত শারমিনের বড় ভাই শাহিন অভিযোগ করেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফোরকান তার ভাই রসুলকে বাসায় ডেকে আনেন। এরপর পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, ফোরকান বিভিন্ন সময় মাদক সেবন করতেন। তবে পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি খালি দেশীয় মদের বোতল ও আংশিক তরল ভর্তি একটি কোমল পানীয়ের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, নিহতদের অচেতন করতে কোনো মাদক বা ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী ফোরকান পলাতক থাকায় তাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন