প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৭:৫১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
আব্দুস শাকিম: জেলা প্রতিনিধি:
দেশীয় ফল, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘গীত-মঞ্জরি’। শুক্রবার বিকেলে শহরের প্যারীমোহন সাধারণ গ্রন্থাগার চত্বরে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁ এ আয়োজন করে।
উৎসবে প্রায় ২২ প্রজাতির দেশীয় ফলের আকর্ষণীয় প্রদর্শনী করা হয়। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, পেয়ারা ও জামরুলের পাশাপাশি লটকন, কামরাঙা, আতা, শরিফা, ডেউয়া, করমচা, কদবেল, বেল, সফেদা, আমড়া, বাতাবি লেবু, গাব, তাল ও বেতফল স্থান পায় প্রদর্শনীতে। দর্শনার্থীরা ফলগুলোর স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি সেগুলোর পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও জানতে পারেন।
একুশে পরিষদ নওগাঁর সাধারণ সম্পাদক এম এম রাসেল বলেন, নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচিত করা এবং পুষ্টিকর ফল খাওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। একসঙ্গে এত বৈচিত্র্যময় দেশীয় ফল দেখার ও স্বাদ গ্রহণের সুযোগ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
ফল উৎসবকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয় নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ‘গীত-মঞ্জরি’। স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক, লোকজ ও আধুনিক গানের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। মাটির গান, দেশীয় ফলের সৌরভ ও অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উৎসবটি পরিণত হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি ডিএম আব্দুল বারী বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সংগঠনটি সারা বছর নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে। নতুন প্রজন্মকে শিকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়েই সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ সম্ভব।
তিনি জানান, এবারের ফল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফলের শৈল্পিক উপস্থাপনা। ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের থালা, পাত্র ও বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহার করে ফলগুলো নান্দনিকভাবে প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে দেশীয় ফলের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি বাংলার হারিয়ে যেতে বসা মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যও নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ফল উৎসবে শহরের বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় ফল, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন