প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

ছবি: সংগৃহীত


আমাদের সকাল ডেস্ক:
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার পরিবার সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষা জীবনে তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৬২ সালে স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার পারিবারিক ব্যবসার অংশ হিসেবে কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠিত হোটেল সায়মনের কার্যক্রম সম্প্রসারণেও তিনি ভূমিকা রাখেন, যা বর্তমানে পর্যটন খাতে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই ১৯৭০ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সেক্টর-১ এর সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনের শেষ সময়ে তিনি বিভিন্ন বিতর্কের মুখোমুখি হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর একই বছরের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তিনি ধাপে ধাপে আদালত থেকে জামিন লাভ করেন এবং ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারামুক্তি পান।

তার মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল শোক প্রকাশ করেছে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে।
 

মন্তব্য করুন