প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ০৭:০৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে ওই তরুণীকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের আটক করা সম্ভব হয়।
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণীর বয়স ১৯ বছর। তার বাড়ি বগুড়া জেলার শারিয়াকান্দি উপজেলায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার ধামরাই এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে মনির শেখ, আলম ফকির ও মুন্নি নামে তিনজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযুক্তরা ধামরাই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মনির শেখ প্রথমে তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন। পরে তাকে বিয়ের আশ্বাস ও উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জনের পর গত ১৪ মে তাকে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন আটকে রেখে পরিস্থিতি বোঝার সুযোগ না দিয়ে মানসিকভাবে চাপে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তরা তরুণীকে রথখোলা যৌনপল্লীতে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি বুঝতে পারেন তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ সময় তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তাকে ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি চিৎকার করে দৌড়ে পালিয়ে যান এবং যৌনপল্লীর সামনের একটি দোকানে আশ্রয় নেন।
তরুণীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা তিন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তানিয়া ও দুখু নামে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে মানবপাচার চক্রের আরও সদস্য জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
মন্তব্য করুন