প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ০৯:০১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
আলী হামজা: কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুড়িহাটী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ‘সরলা স্মৃতি গ্রন্থাগার’ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রামীণ জনপদে জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। প্রয়াত চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডা. সুকুমার রায়ের স্বপ্ন ও উদ্যোগে ২০০১ সালে গড়ে ওঠা এই পাঠাগারটি বর্তমানে এলাকার শিক্ষার্থী, বইপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের নির্ভরযোগ্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
গ্রন্থাগারটিতে নিয়মিত জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকা, সাময়িকী এবং বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়েও গ্রামীণ পরিবেশে এমন একটি পাঠাগারের সক্রিয় উপস্থিতি এলাকাবাসীর কাছে ব্যতিক্রমী ও আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডা. সুকুমার রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে গ্রন্থাগারটির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাঁর সহধর্মিণী রীতা ব্রহ্ম, যিনি একজন সহকারী অধ্যাপক। পাঠাগার পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবামূলক নানা উদ্যোগেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
শুধু পাঠাগারই নয়, মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। ডা. সুকুমার রায়ের স্মরণে প্রতি রবিবার এখানে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। মাত্র ১০০ টাকা পরামর্শ ফিতে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক ডা. জি. এম. মাহমুদুল হাসান।
অল্প ব্যয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এ উদ্যোগ থেকে উপকৃত হচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রামীণ অঞ্চলে এমন সেবা সাধারণ মানুষের জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু আশপাশের এলাকা নয়, দূর-দূরান্ত থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “বর্তমান সময়ে গ্রামে এমন পাঠাগার খুব কম দেখা যায়। এখানে মানুষ বই পড়তে আসে, আবার স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবাও পাচ্ছে। এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।”
নিয়মিত পাঠক শফিকুল ইসলাম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই গ্রন্থাগারে আসি। এখনো এখানে বই ও পত্রিকা পড়ার সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা।”
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক নারী জানান, “মাত্র ১০০ টাকায় ভালো চিকিৎসাসেবা পাওয়া গ্রামের মানুষের জন্য অনেক বড় সহায়তা। তাই আমরা নিয়মিত এখানে আসি।”
স্থানীয়দের মতে, পাঠাগার, শিক্ষা ও স্বল্পমূল্যের চিকিৎসাসেবা—এই তিনটি উদ্যোগকে একই ছাতার নিচে ধরে রাখার বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে ‘সরলা স্মৃতি গ্রন্থাগার’। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পরও এটি মানবতা, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে কেশবপুরে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন