প্রকাশিত: ১ জুন, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে—রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার:

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর ভেতরে অনেক ‘গুপ্ত চাঁদাবাজ’ আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, অন্য দলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার আগে জামায়াতের নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকানো উচিত।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, “জামায়াত বড় বড় কথা বলছে, টেলিফোনে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলছে। কিন্তু নিজেদের দিকে একবার তাকানো উচিত। মিরসরাইয়ে ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনায় জামায়াতের দুই নেতা ধরা পড়েছিলেন। ফেনীতেও মামলার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এগুলো শুধু কয়েকটি উদাহরণ।”

তিনি দাবি করেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করা হলেও জামায়াতের মধ্যে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা আশ্রয় নিয়েছে। তার ভাষায়, “অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে।”

চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, “আপনারা চাঁদাবাজিকে অন্য নামে অভিহিত করার চেষ্টা করেন। আরবি শব্দ ব্যবহার করে বিষয়টিকে আড়াল করতে চান। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, বিএনপির মধ্যে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়ম বা অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার, অব্যাহতি ও শোকজ করেছেন। শক্তিশালী নেতা থেকে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী—কেউ ছাড় পায়নি।”

জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ এসেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর অনেককে বহিষ্কার করেছেন। তাহলে আপনারা নিজেদের পুরোপুরি পরিশুদ্ধ দাবি করেন কীভাবে?”

রিজভী আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু, তবে তারা জামায়াতকে পছন্দ করে না। একইভাবে ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও তারা সমর্থন করে না।”

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও ধর্মবিরোধী অবস্থান—উভয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাও মানুষ পছন্দ করে না, আবার ধর্মের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যও গ্রহণযোগ্য নয়।”

জাসাসের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চার পাশাপাশি বিশ্বের ইতিবাচক সাংস্কৃতিক অর্জনগুলো গ্রহণ করতে হবে। তবে দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধ্বংসের যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার দায়িত্ব জাতীয়তাবাদী শক্তি ও তাদের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর।

জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, জাসাস নেতা লিয়াকত আলী লাকি, ফেরদৌস ফকির, জাবেদ আহমেদ কিসলু, খালেদুজ্জামান জুয়েল, ফরহাদ হোসেন নিয়ন ও রাফিজা আলম লাকিসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন