প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শেষ করার দাবির জবাবে ইরানকে বারবার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে আবার সময় পিছিয়েও দিয়েছেন। তবে এবার নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, সেটাই চূড়ান্ত। সুযোগ থাকলে ইরানের তেল নিয়ে নিতাম। প্রচুর ডলার কামাতাম।
সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের শিশুদের জন্য আয়োজিত ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, সংঘাত শেষ করার মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি ইরানের সাড়া তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তা যথেষ্ট নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছে, এটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তাব। গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু যথেষ্ট নয়। তারা যা করতে হবে তা করলে যুদ্ধটি খুব দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। তাদের কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে হবে। তারা তা জানে। আমি মনে করি, তারা সৎ উদ্দেশ্যেই আলোচনা করছে।
তিনি বলেন, ইরানের একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মঙ্গলবারের যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা চূড়ান্ত।
হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে ইরানের নতুন বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে আবারও হুমকি দিয়ে বলেন, আর যদি তারা আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে তাদের কোনো সেতু থাকবে না। তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না। তাদের কিছুই থাকবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমার যদি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকত, আমি কী করতে চাইতাম? তেল নিয়ে নিতাম। কারণ, এটা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার নেই।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত আমেরিকার জনগণ চায় আমরা দেশে ফিরে আসি।
এদিকে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান তাদের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে না। প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য ইরান কোনো সময়সীমা মানবে না এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নেই।
ট্রাম্পের ঊর্ধ্বতন সহযোগীরা পাকিস্তানের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, যেখানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে ও প্রণালিটি পুনরায় চালু করে দেবে।
এরও আগে ট্রাম্প তেহরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবারের শেষ নাগাদ যদি তারা যদি কোনো চুক্তিতে না আসে তাহলে দেশটির ওপর ‘নরক’ নেমে আসবে। চুক্তির শর্ত হিসেবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে যান চলাচল পুনরায় শুরু করার কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা
মন্তব্য করুন