প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:০৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
সংস্কারের তিন মাস না পেরোতেই কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল পুরানবোর্ড থেকে পিএমখালীর চেরাংঘর পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আবার সড়কের দুই পাশে দেখা দিয়েছে ভাঙন। বৃষ্টির পানি জমে অনেক স্থান পরিণত হয়েছে কাদাময় জলাবদ্ধতায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের পর আগের চেয়েও দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ সড়ক সংস্কারে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তবে সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ভাঙা ও কাদাযুক্ত অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় অটোরিকশা থেকে যাত্রীরা নেমে হেঁটে ভাঙা অংশ পার হচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। এরই মধ্যে সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশের প্রায় ৬০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৪০০ মিটার অংশের কার্পেটিং উঠে গেছে। অতিবৃষ্টির পর পানি জমে এসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সংস্কারের আগে রাস্তা অনেক ভালো ছিল। এখন রাস্তা না খাল, বোঝা যায় না। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার মানুষের চলাচল।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সড়কটির সংস্কারকাজ করছে নিটা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় কার্পেটিং, কোথাও নালা বা ড্রেন এবং কিছু স্থানে ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি গাইডওয়াল নির্মাণের কাজ রয়েছে। সড়কটির প্রস্থ শুরুতে প্রায় ৩ মিটার এবং শেষের দিকে সাড়ে ৩ মিটার।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবছারের অভিযোগ, সংস্কারকাজের সময় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে তাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সময় আমরা কাজে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কথা আমলে নেননি। এ কারণে তিন মাস না যেতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে।’
খুরুশকুল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্বপন দে বলেন, সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা দেখেছেন। এটি ইউনিয়ন পরিষদের কাজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এলজিইডি কার্যালয়কে জানানো হয়েছে।
ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হলেও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী অনেক জায়গায় জায়গা সংকটের কারণে নির্ধারিত কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত ব্যয় প্রস্তাবিত অর্থের চেয়ে কম হতে পারে।
তিনি বলেন, ড্রেন, গাছপালা ও বসতবাড়ির কারণে কিছু এলাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে সেখানে কাজ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পে মূলত কার্পেটিং, কিছু স্থানে নালা এবং কোথাও কোথাও ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি গাইডওয়াল নির্মাণের কাজ রয়েছে।
প্রায় ৪০০ মিটার কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কার্পেটিং উঠে গেছে। তবে কার্পেটিংয়ের নিচের স্তরে কী রয়েছে, সেটি তাঁদের কাজের আওতাভুক্ত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে এলজিইডির কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, ‘পানি প্রবাহের সমস্যার কারণে রাস্তা ভেঙে গেছে। আরও কিছু ড্রেনের কাজ বাকি আছে। এসব কাজ শেষ হলে আমরা রাস্তার কাজ বুঝে নেব।’
মন্তব্য করুন