প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ১২:৩২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তিন নতুন আইনে মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

ছবি : সংগৃহীত

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ এবং বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়নসংক্রান্ত নতুন আইনের বিভিন্ন বিধান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এসব আইনের কিছু পরিবর্তনের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহির সুযোগ সীমিত হতে পারে। (Human Rights Watch)

সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর তুলনায় ২০২৬ সালে প্রস্তাবিত বা গৃহীত আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্তের ক্ষমতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা কমেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনের সরাসরি তদন্তের সুযোগ সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। (Human Rights Watch)

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের কাঠামোয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনকে সংশ্লিষ্ট বাহিনী বা সরকারের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়ার ওপর বেশি নির্ভর করতে হবে। সংস্থাটি বলছে, এতে স্বাধীনভাবে অভিযোগ তদন্তের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। (Human Rights Watch)

এ ছাড়া কমিশনের সদস্য নিয়োগ, প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকারের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ তদন্ত নিয়েও আপত্তি

জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রেও আইনগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটির মতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে যে স্বাধীন তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছিল, নতুন ব্যবস্থায় তার কিছু অংশ দুর্বল হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। (Human Rights Watch)

র‍্যাবের পরিবর্তে নতুন নামে বাহিনী

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও বলেছে, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত না করে নতুন নামে কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংস্থাটির বাংলাদেশবিষয়ক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের অধীনে র‍্যাব নতুন নামে বহাল রয়েছে। (Human Rights Watch)

এইচআরডব্লিউর মতে, নতুন বাহিনীর কার্যক্রমে মানবাধিকার সুরক্ষা, স্বাধীন নজরদারি ও জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংস্থাটি বাংলাদেশের আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। (Human Rights Watch)

মন্তব্য করুন