প্রকাশিত: ৮ মে, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছাত্রদলে পদ পেলেন ঢাবির কার্জন হলের নিরাপত্তা কর্মী
রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সংগঠনটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নাম এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় কর্মরত এক নিরাপত্তাকর্মীর। বিষয়টি সামনে আসার পর ছাত্রদলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
গত ৪ এপ্রিল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের স্বাক্ষরে ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায়। পরে ২ মে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কমিটির তালিকা প্রকাশিত হলে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জুলহাস মিয়ার নাম নজরে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলহাস মিয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের অধীন কার্জন হলের মূল ফটকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবেও কর্মরত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুলহাস মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে একটি “সম্মানসূচক” পদ প্রত্যাশা করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেনের কাছে নিজের সিভি জমা দেন। তবে প্রকাশিত কমিটিতে থাকা ব্যক্তি তিনিই কিনা, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন বলে দাবি করেন জুলহাস। এজন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
ছাত্রত্ব না থাকা অবস্থায় কীভাবে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ততার কারণেই হয়তো তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের কাগজপত্রও জমা দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহাগ ভূঁইয়া জুলহাস মিয়াকেই কমিটিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জুলহাস সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সিভি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা নেতারা তাকে চলমান শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
এদিকে সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেন দাবি করেন, জুলহাসের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। তার বক্তব্য, টিমের দায়িত্বে থাকায় তিনি শুধু সিভি গ্রহণ করেছিলেন।
একইভাবে সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মজুমদারও বলেন, জুলহাস যে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করেন, তা তাদের জানা ছিল না। তিনি আরও জানান, বর্তমানে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ছাত্রত্বের পাশাপাশি একাডেমিক কাগজপত্র বিবেচনা করা হয় এবং জুলহাস প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডকুমেন্ট জমা দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘কমিটিতে এমনটি হওয়ার কথা না। আপনি আমাকে তালিকা পাঠিয়ে রাখুন। বিষয়টি দেখে পরবর্তীতে মন্তব্য করব।’
মন্তব্য করুন