প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৯:১৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানছে

ছবি সংগ্রীহিত

একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানছে
-ইসলামী ছাত্রীসংস্থা

মহান জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী কর্তৃক ব্যক্তি স্বাধীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে আপত্তির মন্তব্য করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা মহানগরী উত্তর। ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভানেত্রী সাওদা ইয়াসমিনের সভানেত্রীত্বে এবং  বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বশীলা মারজিয়া সিদ্দিকার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তামিমা আফরোজ, ঢাকা মহানগরী পশ্চিম সেক্রেটারি, মাহবুবা আক্তার, উত্তর সেক্রেটারি খাদিজা আক্তার, মহানগরী উত্তর  ইকরা কবির বিন নুর,মহানগরীর সদস্যা নুসাইবা ফারিয়াহ খান প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের উপর প্রতিনিয়ত আঘাত করছে। একই সাথে করছে শুধুমাত্র বাহ্যিক পোশাকের কারণে হেনস্থা, অপমান, কটুক্তি। বিশেষ করে পর্দানশীন নারীরা এর মূল টার্গেট। ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করা ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হবার পরও সমাজ, পরীক্ষার হল, কর্মক্ষেত্র সব জায়গাতেই এ নিচু মানসিকতার আক্রোশের শিকার হচ্ছে নারী সমাজ। তাই এদের বিরুদ্ধে গণসচেতনা সৃষ্টি ও সামাজিক প্রতিরোধের কোন বিকল্প নেই। 
তারা বলেন, বিষয়টি এখন জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র অঙ্গনে গিয়ে গিয়ে ঠেকেছে। যে সংসদ গণতন্ত্র, সংবিধানের ধারক বাহক সে জাতীয় সংসদেই বোরকা-হিজাব পরিহিত নারী সাংসদদের নিয়ে বিএনপির সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরীর কটূক্তি এবং তাতে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। যা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত।
মানবন্ধনে কর্মসূচিতে বিভিন্ন দাবি পেশ করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভানেত্রী সাওদা ইয়াসমিন। মানববন্ধনে নিন্মলিখিত দাবি ও প্রস্তাব পেশ করা হয়-
১. ধর্মীয় সাংবিধানিক অধিকারকে অবমাননা করে বোরখা-হিজাব- নিকাব নিয়ে কটুক্তি করা এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
২. দেশের সর্বক্ষেত্রে পর্দানশীন, নিকাব পরিহিত নারীদের নারী পর্যবেক্ষক/ শিক্ষক দ্বারা চিহ্নিত করণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পোশাক নিয়ে হেনস্তার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার প্রস্তাব:
 ১.ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কটুক্তি বা হেনস্তার বিরুদ্ধে সংবিধান স্বীকৃত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।  
২.প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দলীয় পরিমণ্ডলে নৈতিকতা ও  মূল্যবোধের চর্চা চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সকল পর্যায়ে পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রত্যেকে ধর্মের প্রতি মূল্যবোধ চর্চার মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠে।
একই সাথে মানববন্ধনে আশা প্রকাশ করা হয়, ভবিষ্যতে প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান থেকে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করতে শিখবেন এবং এ সংক্রান্ত কোন অন্যায়ে সমর্থন দেবেন না।

মন্তব্য করুন