প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
জুনাঈদ ইসলাম জামিল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা ও সরকারি কলেজের শিক্ষকদের নাম ব্যবহার করে জাল স্বাক্ষর ও নকল সিল দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সত্যায়িত করার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যেই কয়েকটি কম্পিউটার ও ফটোকপি প্রতিষ্ঠানে প্রতি পাতা ২০ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে এ অবৈধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের আমতলা চৌরাস্তা সংলগ্ন নাজমা মার্কেটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে জাল স্বাক্ষর ও নকল সিল ব্যবহার করে সত্যায়িত করা হচ্ছে। প্রতিটি পাতার জন্য নেওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকা।
জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারি ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সত্যায়িত কাগজপত্রের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সুযোগে একটি চক্র বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারি কলেজের শিক্ষকদের নামে জাল সিল তৈরি করে এবং তাদের স্বাক্ষর নকল করে আবেদনকারীদের কাগজপত্র সত্যায়িত করছে। ইতোমধ্যে শতাধিক আবেদনকারী এভাবে সত্যায়িত নথি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের কয়েকজন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকের নামেও জাল সিল তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সিল ও নকল স্বাক্ষর ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সত্যায়িত করা হচ্ছে।
যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, তাদের নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে—এ বিষয়ে তারা আগে কিছুই জানতেন না। তারা এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ বেআইনি উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অনুমতি নিয়েই তারা সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আবেদনকারী জানান, আবেদনের সময়সীমা কম থাকায় এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন হওয়ার কারণে অনেকেই যাচাই-বাছাই না করেই এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কাগজপত্র সত্যায়িত করছেন।
সচেতন মহলের মতে, জাল স্বাক্ষর ও নকল সিল ব্যবহার করে সরকারি বা শিক্ষাগত নথি সত্যায়িত করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে সরকারি নথির নিরাপত্তা ও জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন