প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সিলগালা শেডে ৬ কোটি টাকার পণ্য গায়েব, কর্মকর্তা বরখাস্ত

 

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
বেনাপোল স্থলবন্দরে কাস্টমসের জব্দ করা সিলগালা শেড থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের আমদানি পণ্য গায়েব ও পণ্য পরিবর্তনের ঘটনায় সহকারী পরিচালক কাজী রতনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের আদেশে বলা হয়েছে, কাজী রতন বেনাপোল স্থলবন্দরের সার্কেল-২-এর সহকারী পরিচালক হিসেবে ১৫, ১৯, ৩৬, ৩৭, ৩৯ ও ৪২ নম্বর শেডের দায়িত্বে ছিলেন।

গত ১২ মার্চ ভারত থেকে একটি পণ্যচালান বেনাপোল বন্দরে আসে। কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটি কায়িক পরীক্ষা করার সময় ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য পাওয়ায় তা জব্দ করেন। পরে চালানটি ৩৭ নম্বর শেডে রেখে শেডটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, পরবর্তী সময়ে সিলগালা শেড থেকে ওই পণ্য সরিয়ে সেখানে অন্য পণ্য রাখা হয়।

কর্তৃপক্ষের আদেশে আরও বলা হয়েছে, ট্রাফিক পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজালাল শেডের চাবির একটি সেট ভারপ্রাপ্ত শেড ইনচার্জ আবুল খায়েরকে না দিয়ে সহকারী পরিচালক কাজী রতনের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর গত ৬ জুন রাতে কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে সিলগালা শেডে প্রবেশ করে ভেতরের পণ্য সরিয়ে পরিবর্তন করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় শেডটির একটি চাবি কাজী রতনের কাছে ছিল।

তদন্তে বলা হয়েছে, পরদিন ৭ জুন শেডটির সিলগালা কাটা এবং পণ্য পরিবর্তনের বিষয়টি দেখতে পেলেও কাজী রতন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে গত ২৬ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষের আদেশে বলা হয়, ঘটনার গুরুত্ব ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় কাজী রতনকে দায়িত্বে বহাল রাখা সমীচীন নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সিলগালা করা শেডের নিরাপত্তা, চাবি সংরক্ষণ এবং জব্দ করা পণ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

মন্তব্য করুন