প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১২:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের মতবিনিময়

 

​বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের শাসনতান্ত্রিক নিরাপত্তা দেওয়াই বিরোধী দলের মূল দায়িত্ব। আজ শনিবার সকাল ১০টার সময় বগুড়ায় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

​মতবিনিময় সভায় তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সুশাসন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শহর বগুড়ার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অবহেলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

​শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও অধিকার সচেতনতা
ড. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে রংপুরমুখী কর্মসূচিতে লাখো মানুষের ঢল নামলেও কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। শান্তিময় ও সুসংগঠিতভাবে জনগণের দাবি আদায়ের এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

জনভোগান্তি এড়িয়ে জনগণকে নিজ অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার করাই এই রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

​২৪-এর বিপ্লব ও গণভোটের রায় তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের গুম, নির্যাতন ও ট্রমা কাটিয়ে চব্বিশের গণবিপ্লব দেশের শাসনতন্ত্রে আমূল পরিবর্তন আনবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৯২% মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও বিদ্যমান সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। জনগণের রায়কে অবহেলা করার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

​সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্ব ও বস্তুনিষ্ঠতা
সংবাদমাধ্যমকে সমাজের "চতুর্থ স্তম্ভ" উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান। বক্তব্যের অখণ্ডতা বজায় রেখে নিরপেক্ষ তথ্য প্রকাশের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যম স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠ থাকলে রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগও সঠিক পথে চলতে বাধ্য হয়।
​বগুড়ার উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনের দাবী
উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এবং সাবেক মিনি শিল্পনগরী হওয়া সত্ত্বেও বগুড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একটি মেডিকেল কলেজ ছাড়া শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে উল্লেখ করার মতো উন্নয়ন হয়নি। ভবের বাজার ও পোড়াদহ টেক্সটাইল রোডের বেহাল দশার উদাহরণ দিয়ে তিনি বগুড়ার ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

​বক্তব্যের শেষে তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন, তিস্তাপাড়সহ সারা দেশের গণমানুষের কথা সংসদে তুলে ধরা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি বেকারত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন