প্রকাশিত: ২৫ আগষ্ট, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দিল্লিতে টানা ভারী বৃষ্টি, জারি রেড অ্যালার্ট

দিল্লিতে ভারী বৃষ্টির ফলে সোমবার কোমর-সমান পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন মানুষ। ছবি : সংগৃহীত

 

 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট।

পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় দিল্লিতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমকানো ও দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মধ্য দিল্লি, পূর্ব দিল্লি, নয়াদিল্লি, উত্তর দিল্লি, উত্তর-পূর্ব দিল্লি, শাহদারা, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম দিল্লিসহ প্রায় সব এলাকাকেই সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে।

ব্যাহত বিমান চলাচল

দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও বর্তমানে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সোমবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট বিকল্প হিসেবে জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউ বিমানবন্দরে পাঠাতে হয়েছিল।

ভারী বৃষ্টির কারণ কী?

আইএমডির আবহাওয়াবিদ ড. শশীকান্তের মতে, উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাস এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রবাহিত আর্দ্র বাতাসের সংঘাতের কারণেই দিল্লিতে এমন তীব্র বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হচ্ছে।

তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের কাছাকাছি সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র বাতাস উত্তর দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে উত্তর দিক থেকে শুষ্ক বাতাস আসায় দুই ধরনের বায়ুপ্রবাহের মিথস্ক্রিয়ায় দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পানিতে তলিয়ে গেছে গুরুগ্রাম

ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রামেও। সোমবার মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। রাজীব চক, আইএফএফসিও চক, রেলওয়ে রোড, ওল্ড দিল্লি রোড ও মেহেরৌলি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

বিভিন্ন সড়কে স্কুলবাস আটকে পড়া এবং যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় গুরুগ্রাম প্রশাসন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় দিল্লি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন