প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১১:২৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির কারণে পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ৫৬ দশমিক ৫ হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনে পদ্মা নদীর পানি ৪৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মার পানি ২১ দশমিক ৭৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। বিপৎসীমা ২২ দশমিক ৫ মিটার হওয়ায় নদটির পানি বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
একই সময়ে মহানন্দা নদীর খালঘাট পয়েন্টে পানি ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার এবং পুনর্ভবা নদীর রহনপুর পয়েন্টে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। পাউবো জানিয়েছে, তিন নদীতেই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
নদীর পানি বাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়ন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে নারায়ণপুরে প্রায় ১ হাজার, আলাতুলিতে ৫০০, পাঁকায় ১ হাজার, উজিরপুরে ২৫০ এবং দুর্লভপুরে ২৫০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।
পাঁকা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দা নোমান আলী বলেন, চারদিকে পানি। ঘরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ নেই। গবাদিপশু ও শিশুদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তাঁরা।
পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, ইউনিয়নের ৬ থেকে ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অন্তত সাড়ে ৩৫০টি পরিবারের বাড়িতে পানি ঢুকেছে। আপাতত পানি বৃদ্ধি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও পরিস্থিতির অবনতি হলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও নির্দেশনা পাওয়ার পর দুর্গতদের মধ্যে সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় সদর উপজেলার দুটি ও শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ৫৬ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ৩১ দশমিক ৫ হেক্টর মাসকলাই, ১৪ দশমিক ২ হেক্টর শাকসবজি, ৪ হেক্টর রোপা আমন, ৩ দশমিক ৪ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা এবং আউশ ধান ও হলুদ।
মন্তব্য করুন