প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ১২:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার ৫৫ বাংলাদেশি ফিরছেন দেশে

 

ইউরোপে যাওয়ার আশায় লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ার পর উদ্ধার হওয়া ৫৫ বাংলাদেশি অবশেষে দেশে ফিরছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস, কায়রোর সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় কনস্যুলার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মিশর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তারা।

মিশরের বন্দরনগরী পোর্ট সাঈদের একটি অস্থায়ী কারাগারে থাকা এসব বাংলাদেশির মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের পক্ষ থেকে দেশে ফেরার বিমান টিকিট পাঠানো হয়েছে। তাদের একটি অংশ শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে এয়ার অ্যারাবিয়ার G9 9598 ফ্লাইটে কায়রো থেকে শারজাহর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরে শারজাহ থেকে একই এয়ারলাইনসের G9 9514 ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারা। সূচি অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

অন্যদিকে, ৫৫ বাংলাদেশির আরেকটি অংশ কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। শনিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কায়রো থেকে QR1304 ফ্লাইটে দোহার উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। এরপর দোহা থেকে QR638 ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে রোববার ভোর ২টা ৪০ মিনিটে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা

এর আগে গত ২৪ আগস্ট লিবিয়ার তবরুক এলাকা থেকে ৫৫ বাংলাদেশিসহ মোট ৬৩ জন রাবারের একটি নৌযানে করে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন। নৌযানটির ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৪০ জন। অতিরিক্ত যাত্রী, অনিরাপদ নৌযান এবং পর্যাপ্ত নেভিগেশন ব্যবস্থার অভাবে শুরু থেকেই ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন তারা।

একপর্যায়ে ভূমধ্যসাগরে নৌযানটি বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে। পরে একটি ফিলিপাইনের বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ৫৫ বাংলাদেশি ও আট সুদানি নাগরিককে উদ্ধার করে। প্রায় দুই দিন এক রাত সমুদ্রযাত্রার পর ২৭ আগস্ট তাদের মিশরের পোর্ট সাঈদ বন্দরে নেওয়া হয়। পরে তাদের মিশরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দেশে ফেরাতে দূতাবাসের তৎপরতা

পোর্ট সাঈদে বাংলাদেশিদের অবস্থানের পর থেকেই বাংলাদেশ দূতাবাস, কায়রোর কর্মকর্তারা মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর দূতাবাসের কর্মকর্তারা পোর্ট সাঈদে গিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পরিচয়, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় কনস্যুলার তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়া হয়।

পরে দূতাবাসের উদ্যোগে মিশরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় শনিবার দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

দেশে ফেরার আগে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছে সমুদ্রযাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাংলাদেশিরা। তাদের কয়েকজন জানান, ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় দালালদের হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিয়েছিলেন। কেউ জমি বিক্রি করে, আবার কেউ ঋণ করে সেই অর্থের ব্যবস্থা করেন। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ১০ থেকে ২৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দালালদের দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন পূরণ না হলেও মৃত্যুঝুঁকি থেকে ফিরে পরিবারের কাছে জীবিত ফিরতে পারাটাকেই সবচেয়ে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়া হয়ে অনিরাপদ নৌযানে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দালাল ও মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে বিপুল অর্থ খরচ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা, নিখোঁজ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

পোর্ট সাঈদে উদ্ধার হওয়া ৫৫ বাংলাদেশির ঘটনাও অনিরাপদ সমুদ্রযাত্রার ঝুঁকির বিষয়টি আবার সামনে এনেছে। দালালের মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার আশায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শেষ পর্যন্ত বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

মন্তব্য করুন