প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০৯:১৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বিবাহিত নারীকে হয়রানির অভিযোগ, মুচলেকায় ছাড়া পেলেন ছাত্রদল নেতা

ছবি : ছাত্রদল নেতা উসমান গনি



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এক বিবাহিত নারীকে উত্ত্যক্ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে উসমান গনি (২৮) নামে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের পর তাকে ডেকে এনে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত উসমান গনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী নারী বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী নারী গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় উসমান গনির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উসমান গনি ওই নারীকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তার ছবি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করা একটি ছবি ওই নারীর দেবরের মেসেঞ্জারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে তার সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সম্মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উসমান গনি ওই নারীকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হলে ছবি সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই নারীর মায়ের কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিলে তাকে আর হয়রানি করা হবে না বলে জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ছাড়া স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে না করলে সুযোগ পেলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী নারী জানান, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেও প্রতিকার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
থানায় ডেকে মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ উসমান গনিকে থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে বিএনপির কয়েকজন নেতা থানায় গেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য করুন