প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ০৮:২১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়াবহর গ্রামের থানাঘাট এলাকায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছে এক কিশোর। নিহত সিয়াম আহমদ (১৫) ও অভিযুক্ত তামিম আহমদ (১৪) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ একটি বিষয়—আম খাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজনার মুহূর্তে তামিম ছুরি দিয়ে সিয়ামকে আঘাত করে। আঘাতটি ছিল অত্যন্ত গুরুতর; ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সিয়ামের।
নিহত সিয়ামের পিতার নাম কয়েছ আহমদ এবং অভিযুক্ত তামিমের পিতা আব্দুস শুকুর। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কিশোর পলাতক রয়েছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল হক খান জানান, আঘাতটি হৃদযন্ত্রের খুব কাছাকাছি স্থানে লেগেছিল এবং তা ছিল অত্যন্ত জোরালো।
এদিকে বিয়ানীবাজার থানা-র অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়—রাগ, আবেগ ও ক্ষণিকের উত্তেজনা কত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। যে বয়সে বন্ধুত্ব, স্বপ্ন আর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই একটি তুচ্ছ বিষয় দুইটি পরিবারকে চিরদিনের কান্নায় ভাসিয়ে দিল।
সন্তানদের শুধু পড়াশোনা নয়, নৈতিক শিক্ষা, ধৈর্য, সহনশীলতা ও রাগ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে কিশোরদের মাঝে সহিংসতার বদলে মানবিকতা ও সচেতনতা গড়ে ওঠে।
মন্তব্য করুন