প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ১১:৫৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের পারিবারিক একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের একসঙ্গে উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের অংশগ্রহণও নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ১১ নম্বর রাখালগাছি ইউনিয়নের বগেরগাছি গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তার মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে বিয়ে হয় কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টুকে অতিথি আপ্যায়ন করতেও দেখা যায়। এ দৃশ্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে ভিন্ন মতাদর্শের নেতাদের একই পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। কেউ এটিকে সামাজিক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহ বলেন, “কোনো সংবিধান বা আইনে কি লেখা আছে যে অন্য দলের কারও মেয়েকে বিয়ে করা যাবে না? বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধন। এটি নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের মানসিকতাই প্রশ্নবিদ্ধ।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব বলেন, “রাখালগাছি ইউনিয়নে আমার গ্রামের বাড়ি। সামাজিক সম্পর্কের কারণেই আমি অনুষ্ঠানে গিয়েছি।”
মন্তব্য করুন