প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬, ০৮:২৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টি এলাকার একটি বাসা থেকে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছেন। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে নগরীর ‘কাশেম গার্ডেন’ ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারিহা কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ মিয়ার বড় মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে মেহেদী হাসানের সঙ্গে ফারিহার বিয়ে হয়। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দাবি, বিকেলে ঘুমানোর কথা বলে ফারিহা নিজের রুমে যান। পরে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই স্বামী মেহেদী হাসানসহ তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান।

নিহতের বাবা মো. হানিফ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই ৩০ লাখ টাকার জন্য তার মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। তিনি দাবি করেন, মেহেদী বেকার ও নেশাগ্রস্ত ছিলেন। সংসার চালাতে ফারিহা কোচিং ও প্রাইভেট পড়িয়ে উপার্জিত টাকা স্বামীকে দিতেন। টাকার জন্য তাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন