প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬, ০৯:২২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তদবির বাণিজ্য, সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তদবির বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা তার সুপারিশে সাড়া না দিলে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বদলির হুমকি কিংবা মানববন্ধনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
সম্প্রতি জলমহাল ইজারা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেন নুরুল আমিন। তবে উপজেলা প্রশাসন অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, জলমহাল ইজারা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতেই প্রশাসন কাজ করছে।
এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মারুফ আহমেদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একটি বিষয়ে তদবিরে সাড়া না দেওয়ায় ওই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও বদলির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি।
এছাড়া কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমানের ভূমি দখলচেষ্টার অভিযোগে নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মানববন্ধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা বন্ধে প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন