প্রকাশিত: ২৩ আগষ্ট, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নোটিশ ছাড়াই পরীক্ষা, সানরাইজ নার্সিংয়ে অনিয়ম, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

 

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের সানরাইজ নার্সিং ইনস্টিটিউটে লিখিত নোটিশ ছাড়া পরীক্ষা নেওয়া, মৌখিক নির্দেশে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং কোর্স ফি পরিশোধে বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ জাফরুল্লাহ ও অধ্যক্ষ তাজমিন আরা বেগমের সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এতে নার্সিং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

লিখিত নোটিশ ছাড়াই পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট থেকে মিডটার্ম পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা ২২ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই কলেজে ডেকে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

পরে মৌখিকভাবে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। একইভাবে গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) অধ্যক্ষ শিক্ষকদের ফোন করে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কলেজের নোটিশ বোর্ডে প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে কোনো লিখিত নোটিশ পাওয়া যায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, মিডটার্ম পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এর আগে প্রায় ১০ দিন নিয়মিত ক্লাস হয়নি। বর্তমানে কলেজে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীও নেই। এমনকি অধ্যক্ষ নিজেই প্রতিষ্ঠানের তালা খোলা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফি নিয়ে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোর্স ফি পরিশোধে সামান্য বিলম্বের কারণে প্রায় অর্ধেক ছাত্রীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে অনেক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ফিল্ড ভিজিট নিয়েও অভিযোগ

গত ১৩ জুলাই পাবনা মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ফিল্ড ভিজিট বাতিল করেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানের বৈধ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ওই ভিজিট বাতিলের বিষয়ে নোটিশ দিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর নিয়ে বিরোধ

সানরাইজ নার্সিং ইনস্টিটিউটের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক পক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও অংশীদার শামসুদ্দিন মন্ডল মিলে প্রতিষ্ঠানটি স্পন্দন ক্যান্সার জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদেকুর রহমান দুলালের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ নিয়ে দিনাজপুর সদর জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ওই মামলায় আদালত প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরও প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে আদালত অবমাননা ও ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব মামলার বিষয়ে আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

নার্সিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় পড়াশোনা করতে এসে এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও ফিল্ড ভিজিট নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী যেন প্রশাসনিক বিরোধের কারণে শিক্ষা ও পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল, স্থানীয় প্রশাসন এবং আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নোট: অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; কর্তৃপক্ষ বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

চাইলে আমি এটাকে আরও ধারালো জাতীয় পত্রিকার শিরোনামসহ ৫০০–৬০০ শব্দের রিপোর্ট হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।

মন্তব্য করুন