প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হবিগঞ্জে জলমহাল ইজারা নিয়ে ইউএনও ও বিএনপি নেতার বাদানুবাদ
এবাদুর রহমান, নীবগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জলমহাল ইজারা কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন এবং নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমীনের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি নুরুল আমীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে জলমহাল ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে মানববন্ধনের ঘোষণাও দেন। তাঁর অভিযোগের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, জলমহাল ইজারা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি কিংবা ঘুষ বাণিজ্যের সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বক্তব্যে ইউএনও বলেন, “জলমহাল কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয় যে প্রভাবশালীরা সিন্ডিকেট করে ভোগ করবে। তদবির নয়, বরং সাধারণ ও প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপজেলা জলমহাল কমিটির প্রতিটি সিদ্ধান্ত প্রচলিত আইন ও বিধি মেনেই গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ মহলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও আরও বলেন, কারও কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রমাণ ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার অনুরোধও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে থাকা জলমহাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন