প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
চন্দ্রপুরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি নাম—আলী ইসলাম আলো। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অতীতে মাদক ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা এই ব্যক্তি এখন নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে আবারও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ–এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় চন্দ্রপুর এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন ব্যবসার ওপর তার একক নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং তার পরিবারের সদস্যরাও এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতেন বলে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
গত ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর কিছুদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলেও দাবি করেন এলাকাবাসীর একটি অংশ। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে তিনি এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এবং নিজেকে চন্দ্রপুরের রাজনীতির প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে দাবি করছেন।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, তার প্রভাবের কারণে তারা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এবং দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
নির্বাচনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এলাকায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার অনুসারীরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে মারধর, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীরা মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে তার প্রকাশ্য অবস্থান এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়।
চন্দ্রপুরের সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।
মন্তব্য করুন