প্রকাশিত: ৮ মে, ২০২৬, ১১:০৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

৭২ বছর পর রাবি ক্যাম্পাসে চালু হলো প্রথম ফার্মেসি

ছবি: সংগৃহীত

৭২ বছর পর রাবি ক্যাম্পাসে চালু হলো প্রথম ফার্মেসি

৭২ বছরের অপেক্ষার অবসান, রাবি ক্যাম্পাসে উদ্বোধন হলো প্রথম ফার্মেসি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠার ৭২ বছর পর ক্যাম্পাসে ফার্মেসি সুবিধা পেলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৮ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবলিশ চত্বর সংলগ্ন এলাকায় ফার্মেসিটির উদ্বোধন করা হয়।

জানা যায়, রাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল ক্যাম্পাসে ফার্মেসি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে রাকসুর প্রথম অধিবেশনে সমাজকল্যাণ বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় টেন্ডারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী ফার্মেসি স্থাপনের অনুমতি পান।

পরবর্তীতে এস্টেট দপ্তরের সহযোগিতায় ফার্মেসি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে সেখানে কোন ধরনের ওষুধ বিক্রি করা যাবে, সে বিষয়ে একটি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়।

উদ্বোধনকালে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরেও প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি ক্যাম্পাসের ভেতরে একটি ওষুধের ফার্মেসিও ছিল না। আমাদের ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল ক্যাম্পাসে একটি ফার্মেসি স্থাপন করা। আলহামদুলিল্লাহ, রাকসুর উদ্যোগে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে একটি ফার্মেসির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। কিন্তু আমরা সেই প্রয়োজনটি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা এবং রাকসুর উদ্যোগে আজ সেই ঘাটতি পূরণ হলো। বিশেষ করে এমন একটি স্থানে ফার্মেসিটি স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ছাত্রীদের সহজ যাতায়াত ও ওষুধ সংগ্রহের সুবিধা নিশ্চিত হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকলেও একটি ফার্মেসির অভাব ছিল, যা সত্যিই একটি অপূর্ণতা। আজ সেই অপূর্ণতার পূর্ণতা পেল। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আগে জরুরি ওষুধের প্রয়োজন হলে তাদের কাজলায় যেতে হতো। এখন তারা ক্যাম্পাসের মধ্যেই সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পাবে।'

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও এটি বড় ধরনের সুবিধা সৃষ্টি করেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করা এখন আরও সহজ হবে। এমন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।'
 

মন্তব্য করুন