প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬, ১১:৩৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত

 


বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ। নিউইয়র্কে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে দেশ দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও টিকাসহ জীবনরক্ষাকারী সহায়তায় বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ওচা) যৌথভাবে এ ঘোষণা দেয়।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবকে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয়, চলতি বছরে দেশে এখন পর্যন্ত ৩৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ হাজারের বেশি শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট শিশুর মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হলে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের মধ্যে নতুন করে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে ওচা’র জীবনরক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বের ২১টি দেশের জন্য নির্ধারিত এ তহবিলের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ বাংলাদেশ।

ব্রিফিংয়ে এখন টেলিভিশনের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি আব্দুল আহাদ বাংলাদেশের শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও টিকা সহায়তা বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তা জেরেমি পি. লুইন বলেন, বাংলাদেশের জন্য নতুন তহবিলে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ওচা’র সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ক্লিনিক্যাল সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

একই বিষয়ে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার বলেন, স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা যদি পরিস্থিতিকে জীবনরক্ষাকারী জরুরি সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন, তবে বাংলাদেশ অবশ্যই বৈশ্বিক সহায়তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। সহায়তার অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণে উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ড চালুর কথাও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘হিউম্যানিটেরিয়ান রিসেট’ কাঠামোর আওতায় গত চার মাসে বিশ্বের প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়। নতুন এই ব্যবস্থায় ৯২ শতাংশ অর্থ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে এবং দ্রুত তহবিল ছাড়ের মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলের এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের চলমান স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার সঞ্চার করবে।

মন্তব্য করুন