প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬, ১১:৩৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। পূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে মূল ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সকাল থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ওই দিন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে এবং জয়দেবপুর–শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করেন।
পরবর্তীতে শুক্রবার ও শনিবারও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। শনিবার শিক্ষার্থীরা ভিসিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’র মাধ্যমে মূল ফটকে তালা দেন। এ সময় রাজনৈতিক মতাদর্শভিত্তিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। রোববার দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হন বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে। তাদের মতে, নিজস্ব শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভালোভাবে জানেন, ফলে উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা বেশি কার্যকর হবেন।
এদিকে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রোববার রাতে তারা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “ক্যাম্পাসের ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
মন্তব্য করুন