প্রকাশিত: ৩ মার্চ, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

পদ-পজিশনের ভিত্তিতে সম্পর্ক টেকসই হয় না: অমিত

স্টাফ রিপোর্টার:

পদ ও পজিশন বিবেচনায় নিয়ে সম্পর্ক তৈরি করলে তা কখনোই টেকসই হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, সফল হওয়ার পর যদি আমরা নিজেদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলি, তাহলে তা সামষ্টিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-এ যশোর সাংবাদিক ফোরামের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৬ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলী।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “আমরা যখন খুব সফল বা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাই, তখন নিজেদের একটি নির্দিষ্ট বলয়ে আবদ্ধ করে ফেলি। এই জায়গা থেকে সরে আসতে না পারলে সামষ্টিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত না হয়ে স্থায়ী হওয়া উচিত। কিন্তু পদ-পজিশন বিবেচনায় নিয়ে যদি সম্পর্ক তৈরি হয়, তাহলে তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”

প্রয়াত পিতা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য তরিকুল ইসলামের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, যশোর সমিতি গঠনের সময় একটি নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সমিতির বিভিন্ন আয়োজনে তিনি নিয়মিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকলেও ক্ষমতার পালাবদলের পর তাকে আর অতিথি করা হতো না। পরে ২০০১ সালে মন্ত্রী হলে আবার আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে সময় তার বাবা মন্তব্য করেছিলেন—দাওয়াত আসে পদ-পদবির কারণে, সম্পর্কের কারণে নয়। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহত্তর যশোরের উন্নয়নে বিদ্যমান সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “দীর্ঘ সময় পর যশোরের সামনে একটি বড় সুযোগ এসেছে। সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে আমাদের অনেক মানুষ রয়েছেন। অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, বাবু নিতাই রায় চৌধুরীসহ আমরা যারা আছি—সবার মধ্যে সমন্বয় ও সংযোগ স্থাপন করে কাজ করতে পারলে যশোরের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।”

ঐক্যের অভাবের কুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, “সম্প্রতি রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে যশোর থেকে সভাপতি পদে দুজন প্রার্থী দাঁড়িয়ে দুজনই পরাজিত হয়েছেন। আমি আগেই বলেছিলাম—দুজন মিলে একজন ঠিক করুন। কিন্তু কেউ শোনেনি। একা ভালো থাকার চেষ্টা না করে সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করলে তবেই সফলতা আসবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল মুন্নী, যশোর জেলা সমিতির সভাপতি জেলা প্রশাসক আজারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক হারুন জামিল, রশীদ চ্যাটার্জি, তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, মুরসালীন নোমানী; যশোর জেলা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খায়রুল কবীর চঞ্চল, এনসিপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েলসহ ঢাকায় কর্মরত যশোরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা।

যশোর সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক মাহমুদ সোহেল সভাপতির বক্তব্যে বলেন, যশোরের যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যশোর সাংবাদিক ফোরাম পাশে থাকবে। যশোর ঐতিহ্যে এগিয়ে থাকলেও উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে যশোরকে বাংলাদেশের একটি আদর্শ ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকরা ভূমিকা রাখবেন।

তিনি আরও বলেন, যশোরের মানুষের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় যশোর সাংবাদিক ফোরাম বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে।
 

মন্তব্য করুন