প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আরমান খান ছামির, ডিপিআই প্রতিনিধি:
ঈদ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, মিলন ও উদযাপনের অন্যতম প্রধান উৎসব। প্রতিবছর ঈদ এলে মানুষের মনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ঢেউ বয়ে যায়। প্রিয়জনদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই উদগ্রীব হয়ে ওঠে। তাই যারা পড়াশোনা বা কাজের কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকেন, তারা নাড়ির টানে ছুটে যান আপন ঠিকানায়।
রাজধানীর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট- এ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য এসে থাকেন। পলিটেকনিকে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাদের অনেককে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শৈশবের পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে হয়। সারা বছর ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট ও টিউশনের ব্যস্ততায় অনেক সময় বাড়ি ফেরা সম্ভব হয় না। তবে পবিত্র ঈদ উল-ফিতর এর দীর্ঘ ছুটি তাদের সেই সুযোগ এনে দেয়। এই সময়টাতে শিক্ষার্থীরা পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। তাই পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ কেবল উৎসব নয়, বরং পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়ার এক বিশেষ উপলক্ষ।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম আহমেদ বলেন, পড়াশোনা ও ব্যস্ততার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই ঢাকায় থাকতে হয়। তাই ঈদ সামনে এলেই বাড়ি ফেরার অনুভূতিটা আলাদা আনন্দ এনে দেয়। ঈদের আগে থেকেই মনে হয়—আর কয়েকদিন পরই পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা হবে। অনেকদিন পর বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের যাত্রাটাও তখন খুব আনন্দের মনে হয়। ঈদের দিন সকালে পরিবারের সঙ্গে নামাজ পড়তে যাওয়া, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা এবং আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান।
কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ঈদে বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা আমার ক্ষেত্রে প্রায় দুই মাস আগেই শুরু হয়ে যায়। যতই ব্যস্ততা থাকুক, মনে মনে দিন গুনতে থাকি কখন পরিবারের কাছে ফিরব। শহরের জীবন অনেক সময় খুব যান্ত্রিক মনে হয়। অথচ আমার ছোট্ট গ্রামের পরিবেশে বড় হওয়া—সেই স্মৃতিগুলো সবসময় মনে পড়ে। ঈদের দিন গ্রামের ঈদগাহে নামাজ পড়া, পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং গোরস্তানে গিয়ে দাদা-দাদির কবর জিয়ারত করা এসব মুহূর্ত এক বিশেষ অনুভূতি এনে দেয়।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আলি আজম বলেন, দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকার পর ঈদকে ঘিরে বাড়ি ফেরার অনুভূতি অন্য সব অনুভূতিকেই ছাপিয়ে যায়। টিকিট কাটার পর থেকেই শুরু হয় অপেক্ষার দিনগোনা। গ্রামের পথে ফিরে গেলে চারপাশের সবকিছুই যেন আপন মনে হয়—সবুজ ধানের মাঠ, কাঁচা রাস্তা, সন্ধ্যার আজানের সুর। বাড়ির দরজায় মায়ের হাসিমাখা মুখ দেখা আর বাবার স্নেহভরা কণ্ঠে খোঁজ নেওয়া মুহূর্তগুলোই যেন সারা বছরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইমুম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা এক অন্যরকম অনুভূতি। শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহল ছেড়ে বাড়িতে ফিরে আসা এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়। মায়ের হাতের রান্নার ঘ্রাণ, বাবা-মায়ের স্নেহ, ভাই-বোনদের সঙ্গে গল্প—সব মিলিয়ে ঈদের সময়টা হয়ে ওঠে বিশেষ স্মৃতিময়।
তিনি আরও বলেন, ঈদ শুধু নতুন পোশাক বা উপহারের আনন্দ নয়; বরং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়, ভালোবাসা ও সম্পর্কের বন্ধনই ঈদের প্রকৃত আনন্দ। তাই প্রতি বছর ঈদ এলেই শিক্ষার্থীদের মন ছুটে যায় নিজের শিকড়ের কাছে—নিজ গ্রাম, নিজ পরিবার ও শৈশবের সেই পরিচিত পরিবেশে।
মন্তব্য করুন