প্রকাশিত: ২৬ আগষ্ট, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ প্রচারে ৭ নির্দেশনা

ছবি : সংগৃহীত

 

‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সামনে রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মাঠপর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোকে সাত ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে প্রতিযোগিতার লোগো, মাসকট, ড্রপডাউন ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক বা গেটে ব্যানার টানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও উপযুক্ত স্থানে ড্রপডাউন ব্যানার প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানাতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড, অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ এবং ওয়েবসাইটেও প্রতিযোগিতার তথ্য ও প্রচারসামগ্রী প্রকাশ করতে হবে।

যেভাবে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতা

তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে বের করা এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যেই এবারের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলা বা থানা পর্যায়ের খেলা হবে ৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর, জেলা পর্যায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর, শিক্ষা অঞ্চল পর্যায় ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর এবং জাতীয় পর্যায় ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর।

উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ের খেলা ১ থেকে ১০ অক্টোবর, জেলা পর্যায় ১৩ থেকে ২০ অক্টোবর এবং শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ের খেলা যথাক্রমে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর ও ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বালক এবং বালিকা—এই চার বিভাগ থাকবে। উপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে মোট চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে খেলা।

প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সহজ করতে উপজেলা পর্যায়ের খেলা চার থেকে পাঁচটি ভেন্যুতে আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা থেকে বিজয়ী দল জেলা এবং জেলা পর্যায়ের বিজয়ী দল শিক্ষা অঞ্চল পর্যায়ে খেলবে।

জাতীয় পর্যায়ে সাত শিক্ষা অঞ্চলের পাশাপাশি কুমিল্লা ও সিলেটের যৌথ বাছাই থেকে একটি দল নিয়ে মোট আটটি আঞ্চলিক দল অংশ নেবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক মিলিয়ে বালক-বালিকার মোট ৩২টি দল জাতীয় পর্যায়ে খেলবে।

খেলোয়াড়দের বয়সসীমা

নীতিমালা অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের বয়স সর্বোচ্চ ১৯ বছর হতে হবে।

খেলোয়াড়কে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। চলমান এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।

প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড়ের পাশাপাশি একজন ম্যানেজার ও একজন কোচ থাকবেন। বালিকা দলের ক্ষেত্রে অন্তত একজন নারী শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক।

ম্যাচের নিয়ম

খেলা হবে নকআউট পদ্ধতিতে। প্রতিটি ম্যাচের সময় ৯০ মিনিট। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ড্র হলে সরাসরি টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।

অনিয়ম করলে শাস্তি

ভুয়া, অবৈধ বা অপেশাদার খেলোয়াড় খেলানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাতানো ম্যাচে জড়িত হওয়া কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিলে সংশ্লিষ্ট দলকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। রেফারি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা সংশ্লিষ্ট কাউকে লাঞ্ছিত করলেও দল ও খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করার বিধান রয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি, মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ী দল এবং সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতার জন্যও থাকবে পুরস্কার।

মন্তব্য করুন