প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৯:৩৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মণিরামপুরে সর্পদংশন প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান

 

মামুনুর রশিদ খান: মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সর্পদংশন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং সাপে কাটার পর দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সর্পদংশনের ঝুঁকি, প্রতিরোধের উপায় এবং সাপে কাটার পর করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এ সময় সাপে কাটার পর ওঝা-কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলেন, বর্ষাকালে পানি, ঝোপঝাড়, ধানক্ষেত, খড়ের গাদা ও বাড়ির আশপাশে সাপের বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় সর্পদংশনের ঝুঁকি বাড়ে। সাপে কাটার পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রেখে চলাচল কমাতে হবে এবং আক্রান্ত অঙ্গটি স্থির রেখে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

তারা জানান, ক্ষতস্থান কেটে রক্ত বের করা, মুখ দিয়ে বিষ চোষা, আগুন বা রাসায়নিক প্রয়োগ এবং শক্ত করে দড়ি দিয়ে আক্রান্ত অঙ্গ বাঁধার মতো প্রচলিত পদ্ধতি ক্ষতিকর হতে পারে। সাপ ধরতে বা মারতে গিয়ে ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে সম্ভব হলে সাপটির ছবি তুলে চিকিৎসককে দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

সর্পদংশনের ঝুঁকি কমাতে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ঝোপঝাড় ও আবর্জনা অপসারণ এবং রাতে চলাচলের সময় টর্চ বা পর্যাপ্ত আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠে কাজের সময় কৃষক ও শ্রমজীবীদের পায়ের সুরক্ষা ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. অনুপ কুমার বসু, ডা. নাহিদসহ চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের আহ্বান, সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই পারে একটি জীবন রক্ষা করতে।

মন্তব্য করুন