প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬, ০৮:০৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ স্টোরে অগ্নিকাণ্ডের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি অপারেশন থিয়েটার। ফলে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা শতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের বাসিন্দা এছার জোমাদ্দার প্রায় দেড় মাস আগে মস্তিষ্কে টিউমারের অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে নির্ধারিত সময়ে অস্ত্রোপচার না হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দিনমজুর বাবার পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় ও যাতায়াত খরচ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই ধরনের সংকটে রয়েছেন রামপালের সুলতানা আক্তার। স্নায়ুর অস্ত্রোপচারের জন্য ২০ মে তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সেদিনের অগ্নিকাণ্ডের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। কবে অস্ত্রোপচার হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগুনে অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিটের অক্সিজেন লাইনের ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে জরুরি বিভাগ ও চক্ষু বিভাগের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিটও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সোমবার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, সার্জারি, নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের অসংখ্য রোগী অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী এলেও অপারেশন থিয়েটার পুরোপুরি চালু না থাকায় অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিংবা নতুন তারিখের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য অনেকে জমি বিক্রি করেছেন, আবার কেউ ধারদেনা করে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। দীর্ঘদিন হাসপাতালে অবস্থান করায় তাদের আর্থিক সংকটও বাড়ছে।
সাতক্ষীরা থেকে আসা এক রোগী জানান, দুই মাস আগে অপারেশনের তারিখ পেলেও হাসপাতালে এসে জানতে পারেন অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়। কবে অপারেশন হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
হাসপাতালের চিকিৎসকরাও বলছেন, অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রোগীদের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক কাজী আইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে এবং দ্রুত মেরামতকাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।
অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান দিলীপ কুণ্ডু বলেন, অপারেশন থিয়েটারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। মূল সমস্যা অক্সিজেন লাইনে। দ্রুত মেরামত করা গেলে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
এদিকে খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল থেকেই মেরামতকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে অপারেশন থিয়েটার সচল করার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর আজ হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন