প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ওবাইদুল হক, কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজে এখনো নেই কবির কোনো ভাস্কর্য, স্মৃতিস্তম্ভ, নজরুল কর্ণার কিংবা স্থায়ী সাংস্কৃতিক পরিসর। প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে কবির নাম জড়িয়ে থাকলেও বাস্তবে কলেজজুড়ে তার সাহিত্য, দর্শন ও চেতনার দৃশ্যমান উপস্থিতি না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দ্রুত কলেজে একটি নজরুল কর্ণার ও সম্মানজনক ভাস্কর্য স্থাপন করা হোক।
১৮৭৪ সালে দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিনের আর্থিক সহায়তায় পুরান ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় মোহসিনিয়া মাদ্রাসা (ঢাকা মাদ্রাসা)। পরবর্তীতে কয়েক দফা নাম পরিবর্তনের পর ১৯৭২ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে কলেজটির নামকরণ করা হয়। তবে নামকরণের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কলেজে কবির স্মৃতিকে ধারণ করে এমন কোনো স্থায়ী স্থাপনা গড়ে ওঠেনি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশের জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র সরকারি কলেজ হওয়া সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে নজরুলকে জানার বা তার সাহিত্যচর্চার উপযোগী কোনো পরিবেশ নেই। কলেজের মূল ফটকে একটি ম্যুরাল থাকলেও সেটি বছরের অধিকাংশ সময় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে। বিভিন্ন পোস্টারে ঢেকে থাকা ম্যুরালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে রেলিং না থাকায় সেখানে কুকুর উঠে বসে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ফুটপাতের দোকানিদের ময়লা-আবর্জনায়ও নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
সম্প্রতি কলেজের একটি ভবনের দেয়ালে নজরুলের প্রতিকৃতি আঁকা হলেও তার রক্ষণাবেক্ষণেও কর্তৃপক্ষের তেমন নজর নেই বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তাদের ভাষ্য, কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ছাড়া বছরের অন্য সময়ে নজরুলকে কার্যত ভুলেই থাকে কলেজ প্রশাসন। বড় পরিসরে নজরুল জন্মোৎসব আয়োজনের পরিবর্তে কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী পালন করা হয়।
কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিজওয়ান ইসলাম বলেন, “জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কবির কোনো স্থায়ী ভাস্কর্য বা নজরুল কর্ণার না থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শুধু নাম ব্যবহার করলেই কবির আদর্শ ধারণ করা হয় না। আমরা চাই ক্যাম্পাসে একটি সুসজ্জিত নজরুল কর্ণার থাকুক, যেখানে শিক্ষার্থীরা কবির সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম সরকার বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহের প্রতীক। তার নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে তার চেতনার প্রতিফলন থাকা উচিত। পাঠচক্র, সেমিনার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও গবেষণামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি একটি স্থায়ী নজরুল কর্ণার প্রতিষ্ঠা জরুরি।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরুলকে ঘিরে নানা স্থাপনা, মুক্তমঞ্চ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠলেও কবি নজরুল সরকারি কলেজে সেই উদ্যোগের ঘাটতি স্পষ্ট। বিশেষ করে ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির কাব্যগ্রন্থ ও বিখ্যাত পঙক্তির নামে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হলেও রাজধানীর এই কলেজে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, “ম্যুরালের রেলিংটি কবে ভেঙেছে সেটি আমার জানা নেই। কলেজ গেটের কিছু কাজের সঙ্গে এটি সংস্কার করা হবে।”
নজরুল কর্ণার ও ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, “ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। এ বিষয়টি কিছুটা সংবেদনশীলও। তবে নতুন ভবনের কাজ শেষ হলে জায়গার সংকট কিছুটা কমবে। তখন নজরুল কর্ণার স্থাপনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।”
মন্তব্য করুন