প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬, ০৮:২৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দ্রুত কাজের তাগিদ

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে ত্রাণমন্ত্রী

প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এমপি রোববার কুড়িগ্রাম সফরকালে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কার্যক্রম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত সম্ভাব্য স্থায়ী ক্যাম্পাস এলাকা পরিদর্শন করে প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় মন্ত্রী কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় জেলার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পরে সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থায়ী ক্যাম্পাস এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহা. রাশেদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি কুড়িগ্রামের খাল খনন কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতির বিষয়েও খোঁজ নেন। এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে ছিনাই এলজিইডি পার্ক পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, “কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমান সরকার এ অঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কৃষি শিক্ষার প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।”

এ সময় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সফরের জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে অস্থায়ী একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র হল ও ছাত্রী হল—এই চারটি ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তির অর্থ প্রদান এবং ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে এ বছর তিনজন শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ ফলাফলের জন্য মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। কৃষি অনুষদের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাজনুবিন ফেরদৌস ৩.৯৮৫ সিজিপিএ অর্জন করে শীর্ষ স্থান লাভ করেন। এছাড়া মৎস্য অনুষদের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী দৃষ্টি রায় ও মো. রাহাত মিঞা যৌথভাবে ৩.৯৩৮ সিজিপিএ অর্জন করেন। একই সঙ্গে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

মন্তব্য করুন