প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬, ১১:০২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা গ্রহণ ইউপি সদস্যের

ছবি সংগ্রীহিত

 


 

স্বামী মৃত্যুবরণ করলে অসচ্ছল নারীদের জন্য সরকার বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করেছে। তবে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের তীর দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য বকুল আক্তারের দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার স্বামী মো. আজগর আলী জীবিত থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের নামে বিধবা ভাতার সুবিধা ভোগ করে আসছেন। তারা দুজনই বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলোনী গ্রামের বাসিন্দা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বকুল আক্তার জানান, তার এক মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় ভাতার অর্থ সে ব্যবহার করে। তিনি দাবি করেন, একজন সাবেক জেলা প্রশাসকের পরামর্শেই তিনি এই সুবিধা পেয়েছেন। যদিও কোন জেলা প্রশাসক তাকে এমন নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এই সুবিধা গ্রহণ করছেন। ইউনিয়নের বিধবা ভাতা উপকারভোগীদের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শফিক মিয়া বলেন, বকুল আক্তারের স্বামী এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেন। এমন অবস্থায় তাকে বিধবা হিসেবে দেখিয়ে ভাতা প্রদান করা কীভাবে সম্ভব, তা বোধগম্য নয়।

বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসাইন জানান, বকুল আক্তার নির্বাচিত হওয়ার সময় তার স্বামী নেই বলেই তারা ধারণা করেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি ভাতার সুবিধা পেয়ে থাকতে পারেন। বর্তমানে তার স্বামী জীবিত থাকার বিষয়টি শোনা যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিউর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ভাতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্বামী জীবিত থাকলে কোনো নারী বিধবা ভাতার জন্য যোগ্য নন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি ভাতা গ্রহণ করা গুরুতর অনিয়ম। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


 

মন্তব্য করুন