প্রকাশিত: ১৭ আগষ্ট, ২০২৬, ০২:২২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষামূলক সাফল্য

 

বগুড়া প্রতিনিধি:
জ্বালানি ছাড়াই তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় পরীক্ষামূলক সাফল্য পেয়েছে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা দলের দাবি, এ প্রযুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে মাত্র ১ টাকা ৫০ পয়সা।

বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়ার বানদিঘী এলাকায় স্থাপিত পরীক্ষামূলক প্ল্যান্টে ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দুটি পানির পাম্প ও একটি ওয়েল্ডিং মেশিন চালিয়ে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা সরাসরি পরীক্ষা করা হয়।

সম্প্রতি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের স্থান পরিদর্শন করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।

আরডিএ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা দল ২০১৪ সাল থেকে ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। ২০২৫ সাল থেকে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য পাওয়ার দাবি করছে গবেষণা দলটি।

গবেষণা দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এ ধরনের প্ল্যান্ট স্থাপনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

আরডিএর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই পরিমাণ বিদ্যুৎ সার্বক্ষণিকভাবে সৌরশক্তির মাধ্যমে উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে প্রাথমিক হিসাবে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। সে তুলনায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে উৎপাদন ব্যয় ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ কম হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে যান্ত্রিক শক্তি সঞ্চয় ও নিয়ন্ত্রিতভাবে তা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের ধারণা কাজে লাগানো হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ প্রযুক্তি নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশে বগুড়ার আরডিএতে এটি প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক উৎপাদন, দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বাস্তবতা যাচাই করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরীক্ষামূলক সাফল্যকে বৃহৎ পরিসরে কাজে লাগানো গেলে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

মন্তব্য করুন