প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬, ০৭:০৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেরপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ থাকায় জেলার ছোট-বড় খামারিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কোরবানির মৌসুমে সীমান্তপথে ভারতীয় গরু ঢোকার কারণে দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হলেও এবার তারা স্থানীয় বাজার নিয়ে বেশ আশাবাদী।
তবে খামারিদের দাবি, শেষ মুহূর্তে যেন কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।
জানা যায়, মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে থাকে। এতে স্থানীয় খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন।
সম্প্রতি ভায়াডাঙ্গা ও কর্ণঝোড়া পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটজুড়ে শুধুই দেশীয় গরুর উপস্থিতি। কোথাও ভারতীয় গরুর দেখা মেলেনি। এতে খামারিদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সিংগাবরুনা এলাকার খামারি লতিফ মিয়া বলেন, “সারা বছর অনেক কষ্ট করে গরু পালন করি। খাবারের দামও অনেক বেড়েছে। ঈদের সময় ভারতীয় গরু এলে আমাদের গরুর দাম কমে যায়। এবার দেশীয় গরুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।”
আরেক খামারি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “ঋণ নিয়ে খামার চালাই। ভারতীয় গরু এলে লোকসান গুনতে হয়। তাই সীমান্তে কঠোর নজরদারি জরুরি।”
কর্ণঝোড়া পশুর হাটের ইজারাদার আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বছর হাটে কোনো ভারতীয় গরু আসেনি। দেশীয় গরুর সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং ক্রেতাদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক।
ভায়াডাঙ্গা বাজারের ইজারাদার আশু মিয়া বলেন, অবৈধ গরু প্রবেশ ঠেকাতে হাটে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হক জানান, জেলায় এবার ২০টি প্রধান পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ১৮টিতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় এবার গরুর উৎপাদন বেশি হয়েছে।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন