প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ভোরে নাশতা করে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল দুই সন্তানের বাবার মরদেহ

ছবি সংগ্রীহিত

 

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভোরে নাশতা করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুকুর থেকে আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা প্রতিবন্ধী হলেও ভ্রাম্যমাণ দোকান পরিচালনা করে পরিবার চালাতেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারসংলগ্ন সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের একটি পুকুর থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আরিফ কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুতু মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় তোরাবগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে চকলেট ও চানাচুর বিক্রির ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার ছোট্ট সংসার ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন ভোরেও আরিফ তোরাবগঞ্জ বাজারে এসে একটি হোটেলে নাশতা করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে তার ব্যবহৃত লুঙ্গি, গেঞ্জি ও জুতা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যরা আরিফের আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

নিহতের মামা সুলতান আহাম্মদ টিপু জানান, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন। বুধবার রাতেও তিনি ওষুধ গ্রহণ করেছিলেন। তবে কী কারণে তিনি পুকুরের কাছে গিয়েছিলেন কিংবা কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে পরিবার কিছুই জানে না।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন