প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬, ০৮:৩১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ভয়, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সঙ্গে নিয়ে রাবিতে নবীনদের পথচলা শুরু

 

মিরাজ হোসেন, রাবি প্রতিনিধি:
নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর অনিশ্চয়তার মিশেলে প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে রোববার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১টি বিভাগে নবীনদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, জোহা চত্বর, পরিবহন চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, প্যারিস রোড, ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণের উচ্ছ্বাস। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য এবং সিনিয়র শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভ্যর্থনায় নতুন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি উদযাপন করেন উৎসবের আবহে।

দিনাজপুর থেকে আসা আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ রায় বলেন, দেশের অন্যতম স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানান।

পিরোজপুর থেকে আসা মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শিক্ষা পরিবেশের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রথম পছন্দ ছিল। ভবিষ্যতে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের যাত্রা শুরু করেছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বিভাগের শিক্ষক ও সিনিয়রদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব তাকে অনুপ্রাণিত করছে।

এদিকে নবীন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে র‍্যাগিংবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, র‍্যাগিং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের র‍্যাগিং বা এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া বিভাগের সভাপতির অনুমতি ছাড়া নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচিতি বা মতবিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজন না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

দিনব্যাপী নবীন বরণ অনুষ্ঠান শেষে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আবহ বিরাজ করে। নতুন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পাঠ্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবেন তারা।

মন্তব্য করুন