প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শার্শার রামচন্দ্রপুরের সাবিতের আল-আযহারে পড়ার স্বপ্ন পূরণ

 

বেনাপোল(যশোর)সংবাদদাতা
যশোরের শার্শা উপজেলার প্রত্যন্ত রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবু হুরাইরা সাবিত মিশরের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর এ অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

আবু হুরাইরা সাবিত উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবা মো. মনির উদ্দিন একজন কৃষক। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা ও স্বপ্ন পূরণে তিনি সব সময় সহযোগিতা করেছেন। বাবার উৎসাহ ও পরিবারের সহযোগিতায় সাবিত পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যান।

সাবিতের শিক্ষাজীবনের শুরু গ্রামের রহিমপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায়। সেখান থেকে ২০২৩ সালে দাখিল পরীক্ষা পাস করেন তিনি। পরে ঢাকার তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৫ সালে আলিম পরীক্ষা দেন।

আলিম শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন সাবিত। এ সময় তিনি একাধিক ভর্তি ও বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেন। পাকিস্তানের আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন তিনি। একইভাবে ইন্দোনেশিয়ার একটি উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমেও প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তবে সাবিতের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। সেই স্বপ্ন পূরণে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। অবশেষে তাঁর সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে আবু হুরাইরা সাবিত বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া, তিনি আমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।”

সাবিত জানান, আল-আযহারে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতে দেশে ফিরতে চান তিনি। অর্জিত জ্ঞান দেশের মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীর আল-আযহারের মতো ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার ঘটনা। তাঁর এ সাফল্য অধ্যবসায়, স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

 

মন্তব্য করুন