প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০২:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে রক্তি নদীর পানি উপচে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর এলাকায় প্রবেশ করায় সড়কের একটি অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে শুরু করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এদিন দুপুর পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি আরও ৭৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, দুপুরে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক তলিয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেককেই মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কের নিচু অংশে পানি ওঠায় সাময়িকভাবে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটেছে। তবে পানি কমে গেলে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ জানান, আনোয়ারপুর এলাকার সড়কের কিছু অংশ তুলনামূলক নিচু হওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সেখানে পানি উঠে যায়। তবে সাধারণত দীর্ঘ সময় পানি স্থায়ী হয় না। ঢলের পানি নেমে গেলে সড়কটি আবারও যান চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ এবং ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন