প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভে করেছেন স্থানীয়রা। এসময় এমপির বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার ‘আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ’ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জেলা জামায়াতের আমিরের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খোলা হলে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল তা পুনরায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সোনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে স্থানীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বেলা ১১টার দিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমপির বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গোলাম রসুল ও তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত অশালীন ও খারাপ আচরণ করে আসছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর করে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। তারা এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ের শাস্তির দাবিতে সড়কে অবস্থান নেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা জানান, তার মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে শিশুরা এসে প্রতিনিয়ত শোরগোল ও গোলযোগ সৃষ্টি করত। তার মেয়ে অনন্যা কেবল এরই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের শত্রুতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ঘটনার পর এমপি ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এলাকার এই মাদ্রাসাটিতে আড়াইশো থেকে ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াতের কারণে সংলগ্ন সড়কটিতে সবসময় চরম ভিড় থাকে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে উল্টো আমার মেয়েকে মারধর করা হয়। এরপর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। আমি আগেই জানিয়েছি যে আমার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ, তারপরও তারা কোনো কথা শোনেনি। তা সত্ত্বেও অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন