প্রকাশিত: ৪৩ মিনিট আগে, ১২:৩২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘কাপুরুষতা’ ও যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়ার অভিযোগে কঙ্গোর ২৭ সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

 

কিনশাসা (ডিআর কঙ্গো): দেশটির পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই থেকে পিছু হটা ও আদেশ অমান্য করার অভিযোগে ২৭ সেনাসদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) একটি সামরিক আদালত।সামরিক আদালতের নথির বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।আদালত সূত্র জানায়, কঙ্গোর ২১তম সিম্বা ব্যাটালিয়নের অন্তত ১১২ জন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উভিরা সামরিক আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়। অভিযুক্ত সেনাদের বিরুদ্ধে গত আগস্টে সশস্ত্র এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সাথে সংঘর্ষ চলাকালীন সম্মুখসারির অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ আনা হয়।শুক্রবার আদালতের চূড়ান্ত রায়ে বলা হয়, ২৭ সেনাসদস্যকে জঘন্য ‘কাপুরুষতা’ ও আদেশ অমান্যের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ৫৪ সেনাসদস্যকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং আরও ১০ জনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জন নারীসহ মোট ২১ সেনাসদস্যকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত।রাষ্ট্রপক্ষের আইজীবীরা জানান, সাজাপ্রাপ্ত এসব সেনাসদস্যদের উভিরা শহরসংলগ্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ও এলাকাগুলোর সুরক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে দায়িত্বে চরম অবহেলা দেখান তারা। এর আগেও গত বছরের মে মাসে একই অভিযোগে কঙ্গোর সামরিক আদালত দেশটির ৫৮ সেনাসদস্যকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।উল্লেখ্য, পূর্ব কঙ্গোর উভিরা অঞ্চলে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর ভয়াবহ সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি প্রাদেশিক রাজধানী গোমা ও বুকাভুসহ পূর্বাঞ্চলের বিশাল ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। কঙ্গো সরকার, জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা ইন্ধন ও সমর্থন দিচ্ছে। তবে রুয়ান্ডা সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

মন্তব্য করুন