প্রকাশিত: ২৩ ঘন্টা আগে, ০৭:৩৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কাজের আশায় ভারতে গিয়ে কারাগারে, এক বছর পর দেশে ফিরলেন রিয়াসহ ৩ তরুণী

 

ভালো কাজের প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে কারাভোগের পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরেছেন তিন বাংলাদেশি তরুণী। বুধবার দুপুরে ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্ট দিয়ে তাঁদের বেনাপোল চেকপোস্টে হস্তান্তর করা হয়।

ফেরত আসা তিন তরুণী হলেন—সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে রিয়া খাতুন (২৫), নড়াইলের পিরোলী গ্রামের আব্দুর রউফ মুন্সির মেয়ে শিল্পী খাতুন একা (২৬) এবং পাবনার গারুরি গ্রামের হাসেম সরদারের মেয়ে শিমলা খাতুন (২৬)।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভারতীয় ইমিগ্রেশন ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ দুই দফায় তিন তরুণীকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

কাজের প্রলোভনে ভারতে

ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, বিউটি পার্লারে ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে দালালেরা ওই তিন তরুণীকে পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই সীমান্তের অবৈধ পথে ভারতে নিয়ে যায়। পরে তাঁরা বিভিন্ন বিউটি পার্লারে কাজ শুরু করেন।

রিয়া খাতুন মুম্বাইয়ের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করার সময় ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তাঁকে প্রায় এক বছর এক মাস কারাভোগ করতে হয়।

অন্যদিকে, শিল্পী খাতুন ও শিমলা খাতুন মহারাষ্ট্রের পুনের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করার সময় পুলিশের হাতে আটক হন। তাঁরা সেখানে প্রায় আট মাস কারাভোগ করেন।

চিঠি চালাচালির পর দেশে ফেরত

কারাভোগ শেষে তাঁদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বুধবার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ পরে তিন তরুণীকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর কাছে হস্তান্তর করে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের যশোর এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মুহিত চৌধুরী বলেন, ফেরত আসা তিন তরুণীকে প্রথমে যশোরের শেল্টার হোমে রাখা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন