প্রকাশিত: ২১ ঘন্টা আগে, ০৯:১২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠকের পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতির প্রার্থী কে হচ্ছেন—এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিএনপির ভেতরে নানা আলোচনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলকেই প্রার্থী করা হবে, নাকি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্য কোনো নাম সামনে আনবেন, সেটি আজকের বৈঠকের পর স্পষ্ট হতে পারে।
দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি মনোনয়ন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে। এর আগে গত ১০ আগস্ট দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং এরপর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হলে বিএনপির দলীয় ও সরকারি কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তাঁর হাতে থাকা বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং সংসদীয় আসন—তিন ক্ষেত্রেই নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।
মহাসচিব পদটি শূন্য হলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে মন্ত্রণালয়টির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মীর শাহে আলম। তাঁর ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে, নাকি অন্য কাউকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এ ছাড়া মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য হলে সেখানে উপনির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে তাঁর পদটিও শূন্য হবে। এর ফলে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হবে।
এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ায় স্থায়ী কমিটির একটি পদ শূন্য হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে দুটি শূন্য পদে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। দলটির চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও রুহুল কবির রিজভী মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় এলেও তিনি নিজে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেননি। দলের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, আজকের স্থায়ী কমিটির বৈঠককে ঘিরে বিএনপির ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বৈঠকের পরই রাষ্ট্রপতি পদে দলটির প্রার্থী এবং সম্ভাব্য সাংগঠনিক রদবদলের বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
মন্তব্য করুন