প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:১৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে টানা তৃতীয়বারের মতো জাতিসংঘের কালো তালিকায় স্থান পেয়েছে ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২৫ সালের বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুত করা জাতিসংঘের একটি খসড়া প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সশস্ত্র সংঘাতের কারণে শিশুদের ওপর সংঘটিত গুরুতর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, বছরজুড়ে ২৪ হাজার ১৭৪ জন শিশুর বিরুদ্ধে মোট ৩৮ হাজার ৫৫৮টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৫ হাজার ৪৯৩ জন ছেলে, ৭ হাজার ৯৯০ জন মেয়ে এবং ৬৯১ জন শিশুর লিঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরুর পর এটিই শিশু হতাহত হওয়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সংস্থাটির তিন দশকের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনী শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর লঙ্ঘনের প্রধান অভিযুক্তদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। সরকারি বাহিনীগুলোর মধ্যে শিশুদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় শিশু নিহতের সংখ্যা ৩৪ শতাংশ এবং আহত হওয়ার ঘটনা ১০ শতাংশ বেড়েছে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১২ হাজার ৪৪৫টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এছাড়া কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার এবং সোমালিয়াতেও শিশুদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ৬ হাজার ২৬৬ জন শিশু নিহত এবং ৭ হাজার ৯৫৮ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার ৬০৭ জন শিশুকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগ, ৮ হাজার ৩২২ জনকে মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত এবং ৪ হাজার ৫৭৩ জনকে অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার মাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। প্রতিবেদনে তিনি গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলে শিশুদের সুরক্ষা এবং সশস্ত্র সংঘাতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বিষয়ে নতুন করে বৈশ্বিক আলোচনা শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন